, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে বাড়ছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রপ! আতংকে রাজধানীবাসী

  • আপলোড সময় : ১০-১১-২০২৫ ১০:০৩:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১১-২০২৫ ১০:০৩:০২ পূর্বাহ্ন
রাজধানীতে বাড়ছে বিষাক্ত সাপের উপদ্রপ! আতংকে রাজধানীবাসী সংগৃহিত ছবি
ঝোপ-জঙ্গলে, গ্রাম-গঞ্জের মাঠে-ঘাঠে এতদিন সাপের দেখা মিলত। সেই সাপের দেখা মিলছে খোদ রাজধানী ঢাকাতে। সম্প্রতি রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক বিষধর সাপের দেখা মিলছে। যেমন-রাসেল ভাইপার, শঙ্খ গোখরা, খোয়া গোখরা। কখনো সাপের দেখা দিলছে বহুতল ভবনের, কখনো বাসাবাড়ির ঘরের ভেতরে, কখনো গাড়ির পার্কিংয়ে কিংবা প্লে-গ্রাউন্ডে, কখনো আবার ৯/১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনের কোনো বাড়ির ছাদে। এ নিয়ে রাজধানী জুড়েই বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে আতঙ্ক। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী, কাফরুল, বনশ্রী, মিরপুর, খিলগাঁও, মোহাম্মদপুরের বছিলাসহ বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাপ নিয়ে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রায় তারা বিশাল আকৃতির সাপের দেখা পাচ্ছেন। যার মধ্যে গোখরার সংখ্যাই বেশি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে গর্তে পানি ঢুকে গেলে সাপ শুকনো আশ্রয়ের খোঁজে বাসাবাড়িতে চলে আসে। আবার আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তাদের প্রজননকাল হওয়ায় এই সময় সাপের সংখ্যা বেশি দেখা যায়। তারা বলছেন, সাপ দেখতে পেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট বা বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আর যদি কেউ সাপের কামড়ে শিকার হন, তবে যত দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সব সরকারি হাসপাতালে রাসেলস ভাইপারসহ অন্যান্য বিষধর সাপের কামড়ের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম নিশ্চিত করেছে।

সাপ প্রতিরেধের ব্যবস্থা হিসেবে তারা বলছেন, বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যাতে সাপ লুকিয়ে থাকার জায়গা না পায়। গর্ত বা ঝোপঝাড়ের আশেপাশে যাওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে যে, পায়েরনিচে সাপ না পড়ে যায়। এছাড়া পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পেশাদার কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পরিষেবা পেস্ট কনট্রোল সার্ভিসের ব্যবহার করতে পারে, কারণ ইঁদুরের মতো ছোট প্রাণী সাপের খাদ্য এবং এদের উপস্থিতি সাপকে আকর্ষণ করে এবং শিকার ধরতে সাপ মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি বাড়ির ফ্লোর ভেঙে দুইটি বিষধর গোখরা, সাতটি বাচ্চা ও ১৮টি সাপের ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। সাপের ভয়ে বাড়ির ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে পালিয়েছে। ঐ এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, আমাদের মতো এমন জনবহুল এলাকায় এমন বিষধর সাপের কথা চিন্তাই করা যায় না। এরপরও চার-পাঁচ দিন আগে আমাদের পাশের একটি বাসা থেকে ছোট-বড় দিয়ে ৯টা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সঙ্গে আরো বিপুল পরিমাণ ডিমও ছিল। আমরা সবাই ভয়ে আছি। তিনি বলেন, আমার প্রতিবেশী প্রায়ই বলে যে, তার ঘরের আশপাশে সাপ দেখেছে। আমরা প্রথমে বিশ্বাস করিনি। পরে আমিও একদিন দেখি একসঙ্গে দুইটা কালো গোখরা। তিনি বলেন, আমাদের খিলগাঁওয়ের কবরস্থানের পেছনে, চৌধুরী পাড়াসহ বেশ কয়েকটি জলাশয় রয়েছে। তবে এমন সাপের উপদ্রব কখনোই আমরা দেখিনি।

উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা রেজওয়ান আহমেদ বলেন, একই বাসা থেকে ডিমসহ ২৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, সাপের দেখা এখন আমরা প্রায়দিনই পাচ্ছি। কপোতাক্ষ ভবনের অন্য একজন বাসিন্দা শ্রাবণ বিশ্বাস বলেন, কয়েক দিন আগে অফিস থেকে এসে গাড়ি পার্কিংয়ে রাখতেই শুনি একটি বিশাল গোখরা কোথা থেকে যেন আমাদের পার্কিং এরিয়াতে ঢুকে পড়েছে। পরে অ্যানিমেল অ্যাসোসিয়েশনে খবর দিলে তাদের লোকজন এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। শুধু গাড়ির পার্কিংয়ে নয়, বিল্ডিংয়ের ৯/১০ তলাতেও উঠে যাচ্ছে বিষধর সাপ। আমাদের পাশের একটি ভবনের পঞ্চমতলা থেকে এর আগে দুটো সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।


এদিকে সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলাসহ এর আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যেও। বসিলা গার্ডেন সিটি, বসিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি, মেট্রো হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং, ওয়াশপুর, ঘাটারচরসহ আশপাশের এলাকায় নিত্যদিনই দেখা মিলছে বিষধর সাপের। নূরুজ্জামান নামের বসিলার এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকায় ৯ তলা বাসা থেকেও তিন-চারটি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

উত্তরার আরেক বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন কোথা থেকে সাপ বের হয়ে আসে। কয়েক দিন আগে আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে প্লে গ্রাউন্ডে নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি কাগজের নিচে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। পরে একটা লাঠি দিয়ে কাগজ সরাতেই দেখি-বড় একটা কালো সাপ ফণা তুলে ফোঁস ফোঁস করছে। তারপর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের লোককে খবর দিলে তারা এসে সাপটিকে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, গত চার মাসে আমরা শুধু ঢাকা সিটি থেকেই ৩৫২টি সাপ উদ্ধার করেছি। এর মধ্যে মাত্র তিনটি বাদে বাকি সবগুলো পদ্মগোখরা, রাসেল ভাইপার, খৈয়া গোখরা ও রাজ কেউটের মতো মারাত্মক বিষধর সাপ পেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি সাপ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছি। সেখানকার ১১টি ভবনের ৭তলা, ৯ তলা, গাড়ির পার্কিংসহ বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে এসব সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর বনশ্রী, খিলগাঁও ও আফতাবনগরে সাপের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যেসব উঁচু ভবন থেকে আমরা সাপ উদ্ধার করেছি তার আশপাশে কোনো না কোনো গাছ ছিল। সেই গাছগুলো বেয়েই হয়তো সাপগুলো ভবনের উপরে উঠেছে।

আদনান আজাদ আরো জানান, শুধু খিলগাঁওয়ের একটি বাসা থেকেই কয়েক দিন আগে ছোট-বড় মোট ৩৮টি পদ্মগোখরা সাপ উদ্ধার করেছি। সেখানে সাপের ডিমও ছিল। আরেক বাসা থেকে এক ডজনের বেশি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করছি। আগস্টে খৈয়া গোখরার প্রজননকাল ছিল। তখন এক বাসা থেকেই মা সাপসহ ২৭টি বাচ্চা উদ্ধার করেছিলাম।

সূত্র: ইত্তেফাক
সময়ভেলা/সারাদেশ

নিউজটি আপডেট করেছেন : জাকির হোসেন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো  বাংলাদেশের সুযোগ!

​বিশ্বকাপ নাটকে নতুন মোড়, টি-২০ বিশ্বকাপে এখনো বাংলাদেশের সুযোগ!