চট্টগ্রামে গৃহবধূকে টুকরো করে হত্যার ঘটনায় স্বামী পলাতক
-
আপলোড সময় :
১০-০৭-২০২৫ ০৬:০৫:৫০ অপরাহ্ন
-
আপডেট সময় :
১০-০৭-২০২৫ ০৬:০৬:৪৪ অপরাহ্ন
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় ভয়াবহ একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পাহাড়িকা হাউজিংয়ের এফজেড টাওয়ারের নবম তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নারীর নাম ফাতেমা আক্তার (৩৫)। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মো. সুমন পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তিনিই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা আক্তারকে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ ১১ টুকরো করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি শরীর থেকে মাংস আলাদা করে ফেলা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ। হত্যার সময় ঘরে স্বামী-স্ত্রী দুজনই উপস্থিত ছিলেন। তাদের আট বছর বয়সী সন্তান তখন একজন আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিল।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, রাত একটার দিকে প্রতিবেশীরা ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক শব্দ শুনে আমাদের খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, নারীর মরদেহ ১১ টুকরো অবস্থায় ঘরের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে। তিনি আরও জানান, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। ঠান্ডা মাথায় স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।
ফাতেমার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফাতেমা ও সুমনের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সুমনের পেশা পিকআপ চালানো। ঘটনার সময় সুমন বাসায় থাকলেও হত্যার পরপরই পালিয়ে যান। তাঁর অবস্থান শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
ওসি কামরুজ্জামান বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। প্রাপ্ত তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত ফাতেমা ও তার স্বামীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। তবে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করেননি কেউ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিজস্ব প্রতিবেদক
কমেন্ট বক্স