চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের একটি দল আজ সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন 'যমুনা'র উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় কাকরাইল মোড়ে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। অভিযানে অন্তত দুইজন আহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। তারা তিন দফা দাবি—চাকরি পুনর্বহাল ও পুনর্বাসন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলার পুনঃতদন্ত এবং দণ্ডিত সদস্যদের মুক্তির দাবি তুলে আন্দোলন শুরু করেন। সকাল থেকে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ মিছিল নিয়ে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন।
দুপুর ১২টার কিছু আগে কাকরাইল মসজিদের কাছে পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। রমনা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আতিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যমুনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা, সমাবেশ ও পদযাত্রা নিষিদ্ধ করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশের বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জলকামান ছোড়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় তাদের ওপর লাঠিচার্জও চালানো হয় বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের মধ্যে মো. শামছুল হক (৫৫) ও মো. ইউনুছ আলী (৫৭) আহত হন এবং তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আন্দোলনকারীদের এক সদস্য মারুফ সরকার জানান, পুলিশ পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে এবং হঠাৎ করে চারদিকে থেকে ঘিরে ফেলে। এতে অনেকেই দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করেন এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও কাকরাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যার যার মতো সরে গেছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। হেফাজতে নেওয়া ১৩ জনকে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, বারবার সরে যেতে বললেও আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে যানজটের সৃষ্টি করছিল। পরে বাধ্য হয়ে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডের মাধ্যমে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বিডিআর বিদ্রোহ-পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক সদস্য চাকরিচ্যুত হন এবং তাদের অনেকে বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে যারা আন্দোলন করছেন তারা নিজেদের পুনর্বহাল, মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।