রিও ডি জেনিরোতে চলা ১৭তম ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই দায়ের মধ্যে আনা না হয়, তবে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব তার ফলস্বরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলিউশন ২২৩১ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওই চুক্তির মূল্য পুনরায় তুলে ধরেন আরাগচি।
গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-ইরানের সংঘাতে ইসরায়েল আকাশ ও স্থল হামলা চালায়। এসব হামলায় ইরানের প্রাণহানির সংখ্যা ৯৩৫ জন এবং আহত ৫ হাজার ৩৩২ জন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৯ জন প্রাণ হারায় এবং প্রায় ৩৪০০ জন আহত হন । শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের এই হামলার সাথে সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট” এবং এভাবে বোঝানো লজ্জা হবে যে, আন্তর্জাতিক আইন তখন কার্যত ‘চাপের আওতায়’ চলে গিয়েছে । তিনি প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিগোচর করার তাগিদ জানান যে, এই আগ্রাসনের ‘অপরাধী’দের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।
ব্রিকস প্লাস সদস্য দেশগুলো সম্মেলনে এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ জুন থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হওয়া হামলা আইনগতভাবে অনুচিত; এ ধরণের অভিযানগুলো ‘নিরপেক্ষ সামাজিক অবকাঠামো’ ও ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রে’ চালানো হয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয় ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন—ব্রিকসে ইরানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সরমাধ্যমে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা সহজেই থামছে না।
অতএব, আরাগচির হুঁশিয়ারি কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—যদি ইসরায়েলের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চুপ চাপ বসে থাকে। দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিগুলো এখনো প্রতীক্ষার অবস্থা; তবে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।